তৃতীয়
পরিতোষ আর সুমিতের বন্ধুত্ব সেই কলেজের সময় থেকেই একই রকম। দুজনের মধ্যে আজকালকার সময়ের হিসাবে দেখলে অমিল অনেক। যেমন মোহনবাগান, বামপন্থী, চাকুরিজীবিকা পছন্দ, আধুনিকতা এসব গুনদোষ সুমিতের সবগুলো ক্ষেত্রে চিন্তাধারা সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু এসবের কোনো আবহে তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয় না। সুমিত ব্যবসা করতে চাইলেও একদিকে বাড়ির লোক আর অন্যদিকে পরিতোষের জন্য সে এখন চাকরিপ্রার্থী। দুজনেই বীরভূম জেলার ছেলে। বর্ধমানে কলেজে পড়তো। সেখানেই দুজনের আলাপ। প্রথমে একই মেসে থাকতো পরে দুজন মিলে একটা ঘরভাড়া নিয়েছিল। সেখানেই এখনো থাকে চাকরির চেষ্টা সেখান থেকেই।
বাড়িওয়ালা শিবসাধন গোস্বামি ফুর্তিবাজ মানুষ। বীরভূমের সিউড়ি শহরে অনেক আগে তার বাড়ি ছিল। শৈশব কেটেছে সেখানেই। তারপর সতেরো বছর বয়স থেকেই চাকরি সূত্রে বর্ধমানে। তাই এখনও বীরভূমের মানুষের প্রতি স্নেহ খুব। পরিতোষ আর সুমিতকে খুবই ভালোবাসে। উনারা নিঃসন্তান। তাই মাঝে মাঝে বলে আমাদের দুটো মেয়ে থাকলে তোদের দুটিকে জামাই বানাতাম। পরিতোষ মজা করে বলে, "আর যদি একটা থাকতো তার জামাই কাকে বানাতে? " সুমিত একটু শয়তান বেশিই। সে বলে, বাহ রে কত সুন্দর মেয়ে থাকতে আমরা যে তোমাদের মেয়েদের কে বিয়ে করতাম তার কি মানে?" শিবসাধন বাবুর বউ মাহুয়াদেবীও ওদের খুব তোয়াজ করে। তার অবশ্য একটি কারণ আছে।
পরিতোষ আর সুমিত শুধুই যে পড়াশুনা করে তা নয়। টুকটাক গোয়েন্দাগিরিও করে। এব্যাপারে পরিতোষ আসল ব্যোমকেশ, সুমিত অজিত। একবার একটা আংটি চুরি হয়েছিল। আংটিটা মাহুয়াদেবীর। আর চোরটি তারই সাধের বোনপো। এই পরিতোষ আর সুমিতের বুদ্ধিতেই চোরকে ধরা গেছিলো। পাড়াতেও একবার একটা বড় অঘটনের হাত থেকে উদ্ধার হয়েছিল এই ছেলেদুটোর জন্য। তারপর থেকেই সবাই ওদের খুব ভালোবাসে।
শিবসাধন বাবু কেরানির কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এতদিনে কেরানির পদের প্রমোশন পেয়েছে। অভাব নেই। তবে লোকটি খুবই বুদ্ধিমান।মুখে মুখে ক্যালকুলাস করে দেন। পরিতোষ অঙ্কের ছাত্র। মাঝে মাঝে তাই শিবসাধন বাবুর কাছে বুঝে নেই তার প্রয়োজনীয় জিনিস। সুমিত আবার ইতিহাসের ছাত্র। অথচ এই শিবসাধন বাবুর যা সাল তারিখ মনে আছে তা সুমিতকে জিজ্ঞাস করে ওর দুস্টুমি কে দমিয়ে রাখে। শিবসাধন বাবুর জজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সংসারের চাপে তা আর হয়নি। পরে আর চেষ্টাও হয়তো করা হইনি কোনোদিন।
পরীক্ষা মাস দেড়েক পরেই। তাই গত কয়েকদিন ওরা শুধু পড়াশুনাতেই ব্যাস্ত। সকালে শিবসাধন বাবু দুটো টিকিট দিলেন ওদের। পাড়াতে লোকসঙ্গীতের আসর।
রাত প্রায় এগারোটার সময় ওরা বাড়ি ফিরছিল। সুমিত গুনগুন করে গাইছিল,"পড়ছে মনে লোকটাকে, ঘর ছাড়াবার ঝোঁকটাকে, লালমাটি...." সাথে সাথে দুচারটে কথা। শিল্পীদের নিয়ে। অনুষ্ঠান নিয়ে।
বাড়িওয়ালা শিবসাধন গোস্বামি ফুর্তিবাজ মানুষ। বীরভূমের সিউড়ি শহরে অনেক আগে তার বাড়ি ছিল। শৈশব কেটেছে সেখানেই। তারপর সতেরো বছর বয়স থেকেই চাকরি সূত্রে বর্ধমানে। তাই এখনও বীরভূমের মানুষের প্রতি স্নেহ খুব। পরিতোষ আর সুমিতকে খুবই ভালোবাসে। উনারা নিঃসন্তান। তাই মাঝে মাঝে বলে আমাদের দুটো মেয়ে থাকলে তোদের দুটিকে জামাই বানাতাম। পরিতোষ মজা করে বলে, "আর যদি একটা থাকতো তার জামাই কাকে বানাতে? " সুমিত একটু শয়তান বেশিই। সে বলে, বাহ রে কত সুন্দর মেয়ে থাকতে আমরা যে তোমাদের মেয়েদের কে বিয়ে করতাম তার কি মানে?" শিবসাধন বাবুর বউ মাহুয়াদেবীও ওদের খুব তোয়াজ করে। তার অবশ্য একটি কারণ আছে।
পরিতোষ আর সুমিত শুধুই যে পড়াশুনা করে তা নয়। টুকটাক গোয়েন্দাগিরিও করে। এব্যাপারে পরিতোষ আসল ব্যোমকেশ, সুমিত অজিত। একবার একটা আংটি চুরি হয়েছিল। আংটিটা মাহুয়াদেবীর। আর চোরটি তারই সাধের বোনপো। এই পরিতোষ আর সুমিতের বুদ্ধিতেই চোরকে ধরা গেছিলো। পাড়াতেও একবার একটা বড় অঘটনের হাত থেকে উদ্ধার হয়েছিল এই ছেলেদুটোর জন্য। তারপর থেকেই সবাই ওদের খুব ভালোবাসে।
শিবসাধন বাবু কেরানির কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এতদিনে কেরানির পদের প্রমোশন পেয়েছে। অভাব নেই। তবে লোকটি খুবই বুদ্ধিমান।মুখে মুখে ক্যালকুলাস করে দেন। পরিতোষ অঙ্কের ছাত্র। মাঝে মাঝে তাই শিবসাধন বাবুর কাছে বুঝে নেই তার প্রয়োজনীয় জিনিস। সুমিত আবার ইতিহাসের ছাত্র। অথচ এই শিবসাধন বাবুর যা সাল তারিখ মনে আছে তা সুমিতকে জিজ্ঞাস করে ওর দুস্টুমি কে দমিয়ে রাখে। শিবসাধন বাবুর জজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সংসারের চাপে তা আর হয়নি। পরে আর চেষ্টাও হয়তো করা হইনি কোনোদিন।
পরীক্ষা মাস দেড়েক পরেই। তাই গত কয়েকদিন ওরা শুধু পড়াশুনাতেই ব্যাস্ত। সকালে শিবসাধন বাবু দুটো টিকিট দিলেন ওদের। পাড়াতে লোকসঙ্গীতের আসর।
রাত প্রায় এগারোটার সময় ওরা বাড়ি ফিরছিল। সুমিত গুনগুন করে গাইছিল,"পড়ছে মনে লোকটাকে, ঘর ছাড়াবার ঝোঁকটাকে, লালমাটি...." সাথে সাথে দুচারটে কথা। শিল্পীদের নিয়ে। অনুষ্ঠান নিয়ে।
Comments
Post a Comment